গাঁজা কীভাবে এলো?

আমরা সবাই কমবেশি “গাঁজা” শব্দটির সাথে পরিচিত। গাঁজা হলো নেশার জগতে বনেদি সদস্য। চরস এবং ভাং এর সাথে এর ভাই ভাই সম্পর্ক। সিদ্ধি গাছের শুকনো মঞ্জরি থেকে তৈরি হয় গাঁজা। তাই একে সিদ্ধি নামেও ডাকা হয়। তবে পশ্চিমা দেশগুলতে এটি “হাশিস” নামেই বহুল পরিচিত। গাঁজা শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। অনেক দিন থেকেই গাঁজা বা হাশিস নেশার দুনিয়ায় একচেটিয়া অধিপত্ত করে যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের এই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে পপি গাছের বীজ থেকে তৈরি হওয়া হেরোইন এর কাছে। এছাড়াও নতুন নতুন কিছু মাদকের কাছে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। জার্মানির বায়ার ফার্মাসিটিকাল কোম্পানি আফিম থেকে তৈরি করে নতুন এই মাদক হেরোইন।
নেশার জন্য গাঁজা গাছটি (Cannabis Sativa) কে আবিষ্কার করেন তা এখনো জানা যায়নি। তবে গাঁজার ব্যবহার যে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে তাতে সন্দেহ নেই। সাধু সন্ন্যাসীরা গাঁজার দারুন ভক্ত। তান্ত্রিক যোগ সাধনার সাথে যারা জড়িত তাদের সাথে গাঁজার কলকি থাকেই। গাঁজা শুধু সাধু সন্ন্যাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয়। ভারতচন্দ্রের কাব্ব থেকে পাওয়া যায় যে, শিব ঠাকুর ভাং ধুতরা খেয়ে কচুরি পানায় ঘুরে বেড়াতেন।
গাঁজা গাছ
গাঁজা শব্দটি সংস্কৃতিতে “গঞ্জজিকা” বা “গঞ্জিকা”। গঞ্জিকাভক্তদের কাছে গাঁজা কাটার ছুরির নাম “রতন কাটারি” আর কাঠের পিড়ির নাম “প্রেমতক্তি”, ধোয়া ছাঁকবার ন্যাকরার নাম “জামিয়ার”।  গাঁজার কল্যাণে বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ যোগ হয়েছে। যেমনঃ গাঁজাখোর, গেঁজেল, গাঁজাখুরি, গাঁজা ঝাড়া ইত্যাদি। গাঁজার নেশায় মানুষ স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে । তখন সে বিচরণ করে কল্পনার স্বপ্নরাজ্যে।
আগের দিনে গ্রামে রাতে গাঁজার আসর বসতো। এক বৈঠকে একশ কলকি গাঁজা খেতে পারলে কৃতি পুরুষ ময়ূরধ্বজ উপাধি ও দুই ইটের আসনে বাসার অধিকার পেতেন। এছাড়া যে এক টানে কলকে ফাটাতে পারতেন তিনি বোমফট উপাধি পেতেন এবং চার ইটের আসনে বসার অধিকার পেতেন।
সিরিয়ায় একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে কিছু লোক গাঁজা খেয়ে নেশা করে গোপনে মানুষ হত্যা করত। গাঁজা মানুষের স্মরণশক্তি হ্রাস করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাড়ায়। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গাঁজার ব্যথানাশক গুন থাকায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে গাঁজা থেকে পার্শ্বপতিক্রিয়াহীন ঔষধ প্রস্তুত করা হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *