চা কীভাবে এলো?

চা ছাড়া যেন আমাদের একটি দিনও চলে না। এই চা এসেছে চীন দেশ থেকে। চা শব্দটিও চীনা। চীন দেশে চায়ের দুইটি নাম। চীনের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে এই পাতাটির নাম “তে”, আবার কেউ কেউ “তা” নামেও ডাকে। মধ্য চীনে এর নাম “চা”। আমাদের দেশে এই নামটিই এসেছে। শুধু আমাদের দেশে নয়, ভারত-পাকিস্তানেও চা জনপ্রিয়। অন্যদিকে “তে” ইউরোপ ও আমেরিকায় গিয়ে প্রথমে হয়েছে “টে” তারপর হয়েছে “টি”(Tea)। আপাতত এই “টি” নামেই এটি বিশ্ব ভ্রমণ করছে। সপ্তদশ শতাব্দীতেও টি উচ্চারিত হতো টে নামে। জার্মানরা ও ফরাসীরা একে “টে” নামেই চেনে।

খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩৭ অব্দে চীনে প্রথম চায়ের সন্ধান মেলে। চীন সম্রাট শংনুং এর রাজত্বকালে এই পানীয় আবিষ্কৃত হয়। পরে এটি আসে ভারতে জাপানে এবং পুরো এশিয়ায়। প্রথমদিকে এটি সাধু সন্ন্যাসীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। নিজেদের দীর্ঘ সময় উৎফুল্ল রাখার জন্য তারা এটি পান করতো। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে গৃহিণীরা চা রাখার জন্য বিশেষ আলমারি ও চাবির ব্যাবস্থা করতেন যেন কাজের লোক নাগাল না পায়।
ইংরেজরাই প্রথমে ভারতে চা নিয়ে আসে। তারপর সেই চা ভারতে জনপ্রিয় করার জন্য ইংরেজরা প্রথমদিকে হাট-বাজার-বন্দরে বিনামূল্যে চা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। শুধু তাই নয় খাওয়ার পর আবার বিনা পয়সায় চা-পাতা বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া যেত। তারাই শিখিয়ে দিতো কীভাবে বানাতে হবে। চায়ের সাথে বাঙ্গালির পরিচয় আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে। গত শতাব্দীর ত্রিশ-চল্লিশের দশকের আগেও দেখা গেছে বাঙ্গালিকে চায়ের অভ্যস্থ করে তুলতে যেমন প্রচার চলছে তেমনি চলছে চা বিরোধী আন্দোলনও। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রের মতো বিজ্ঞানীও চা পানের কুফলে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলতেন, চা পানে বিষ পান।
বাংলাদেশে চা চাষের প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল ইংরেজরা। চট্টগ্রাম ক্লাব এলাকায় ১৮৪০ সালে সর্ব প্রথম চা চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। অতপর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয় তৎকালীন আসামের সিলেটে।
লেবুর রস দিয়ে চায়ের লিকার পান করলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া এতে ৪০ ক্যালরি শক্তি ও সামান্য পরিমাণ ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) পাওয়া যায়। তবে বেশি মাত্রায় চা পান করলে অস্থিরতা, ঘুমের ব্যাঘাত, নার্ভাস হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। এক কাপ চায়ে প্রায় ৫০ মিলিগ্রাম ক্যাফিন এবং ১ মিলিগ্রাম থিওফাইলিন থাকে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *