পান এর আদি কথা

আমাদের গ্রামীণ সমাজে পান এখনো আপ্যায়ন ও সমাদরের প্রতীক। এছাড়া বৃদ্ধদের কাছে পান খুব জনপ্রিয়। বাঙ্গালির সাথের পানের পরিচয় অনেকদিন আগে থেকেই। “পান” শব্দটি অস্ট্রিক ভাষা থেকে এসেছে। সংস্কৃতিতে এটি হয়েছে “পর্ণ”, এর অর্থ হলো “পাতা”। সংস্কৃতিতে পানের আরেক নাম হলো “তাম্বুল”, আর তেলেগুতে “তমলপাক”। আর্যরা ভারতে আসার আগে এ পাতাটির সাথে বাঙালির পরিচয় ছিল না। পানের পাতা কোন অবলম্বনকে সাপের মতো জড়িয়ে ধরে থাকে বলে একে বলা হয়ে থাকে “নাগবল্লী”।
ইতিহাস থেকে দেখা যায়, প্রাচীনকালে খাওয়াদাওয়ার পর মসলাযুক্ত পানের খিলি পরিবেশন করা হতো। পান কেউ কেউ হাতে দিলেও আসলে পান দেয়া হয় পানের বাটায়। পানের বাটায় করে পান চুন সুপারি খয়ের ও অন্যান্য মসলা দেয়া হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলতে এবং পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে এভাবেই পানের বাটায় পান দেওয়া হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, খিলি বানিয়ে পান পরিবেশনের রীতিটি আর্যরা প্রবর্তন করে এবং এই রীতিটিই পরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পরে।
পান যেখানে চাষ করা হয় তাকে বলে “পানের বরজ”। আর যারা পান চাষ করে তাদের বলে “বারুজীবী” বা “বারুই”। পান বা তাম্বুল যারা বিক্রি করে তারা “তাম্বুলি” বা “তাম্বলি” বা “তামলী” নামে পরিচিত। প্রাচীন আমলে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা কোনো শুভ কাজের পরে সবাই মিলে পান খেতো।
পানের কিছু উপকারিয়তাও রয়েছে। পান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পান খেলে পেট পরিষ্কার হয়। এছাড়া হৃদকম্পন নিয়ন্ত্রণ করে পান। তবে খয়ের ও জর্দা খুব ক্ষতিকর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *